Header Ads

জলপাইগুড়িতে গরু পাচারকারী সন্দেহে ২ মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে






জলপাইগুড়িতে  গরু পাচারকারী সন্দেহে ২ মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার শনিবার গভীর রাতে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির গাদং ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের বারোহালিয়া গ্রামে গরু পাচারকারী সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (১৯) হাফিজুল শেখ (১৯) নামে দুই মুসলিম যুবককে গণপিটুনির শিকার হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 রাতে একটি পিকআপ ভ্যানে করে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় মারমুখী জনতার রোষের মুখে পড়ে ওই তরুণরা। নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি কুচবিহার জেলার পুন্ডিবাড়ির থানার সাকুনিবালা এলাকায়। অন্যদিকে, হাফিজুল শেখের বাড়ি ধুবরির ছোট গুমাতে।
স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় গরু চুরি হচ্ছিল। সেই সন্দেহে গরুর গাড়িটিকে আটকানো হয়। তাদের প্রশ্নের সদুত্তর না পেয়ে গাড়িটিতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং গণপিটুনি শুরু হয় বলে বাসিন্দাদের দাবি।  
এদিকে, ওই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রোববার সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জলপাইগুড়িতে যেভাবে গরু পাচারকারী অভিযোগে দুজন মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। গোট দেশ জুড়ে গোরক্ষার নামে দরিদ্র, নিরীহ মুসলিম এবং দলিতদের উপরে আক্রমণ চলছেদেশবাসী এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও প্রধানমন্ত্রীর মন কী বাত অনুষ্ঠানে তা স্থান পাচ্ছে না।
তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে গো-রক্ষকদের নিন্দা করলেও তার সরকার ও দলের নীরব পৃষ্ঠপোষকতায় গোরক্ষকরা তাদের তাণ্ডব চালিয়ে যেতে সমর্থ হচ্ছে।
কামরুজ্জামান বলেন, প্রশাসন গো-রক্ষদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে গরু নিষিদ্ধ নয়। আসন্ন ঈদুল আজহার আগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আইনসংগত ভাবেই গরু কেনাবেচা হয়। কিন্তু তার আগে যে ঘটনা ঘটল তা নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, আমরা চাই ওই ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের খুঁজে বের করে ঈদের আগেই যাতে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয় সেজন্য প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ করুক যাতে পশ্চিমবঙ্গে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমাদের বিশ্বাস, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
পশ্চিমবঙ্গে গত জুন মাসে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়াতে গরু চোর সন্দেহে তিন মুসলিম যুবককে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। মহম্মদ সমিরুদ্দিন (২৮)নসিরুল হক (৩০) ও মহম্মদ নাসির (৩২) নিহত ওই তিন জনের বাড়ি যথাক্রমে কান্দারপার, কুটিপাড়া ও রামগঞ্জের ঢোলুগজে। সেই ঘটনার জের না মিটতেই এবার ফের গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার খবর প্রকাশ্যে এল।
গত জুন মাসেই জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে জলপাইগুড়ি দিয়ে গরু পাচার বন্ধের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি দীপেন প্রামাণিকের অভিযোগ, বিএসএফ ও পুলিশের একাংশের মদতে যেখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই সেখান দিয়ে গরু পাচার হচ্ছে৷ বিজেপির পক্ষ থেকে জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্ত এলাকার তেরোটি হাটে গরু বেচা-কেনা বন্ধেরও দাবি জানানো হয় সেসময়।
বিএসএফ ও পুলিশ আধিকারিকরা অবশ্য তার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করে এর সত্যতা প্রমাণের জন্য কার্যত পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।

No comments