Header Ads

রাজ্যে তৃণমূলের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে অরাজনৈতিক হিন্দু সংহতি




সত্যজিৎ চক্রবর্তী, সাংবাদিক 

লেখকের ব্লগ থেকে নেওয়া 


রাজ্যে তৃণমূলের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে অরাজনৈতিক হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতি তৃণমূলের মত লড়াই করে মানুষের মন জয় করছে। বিজেপির সামনে এখন প্রতিপক্ষ দুটো জনপ্রিয় রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। কথাগুলো অনেকের অপছন্দ তবুও এটাই বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ। এই আলোচনায় বামেরা আসতে পারে দুটো ক্ষেত্রে, তা হল ব্যর্থতা আর ভয়ের জন্য।







 চৌত্রিশ বছরে হিন্দু সাহসকে ধ্বংস করে দিলেও ফরাসী বিপ্লবের আগের অবস্হায় হিন্দু সমাজকে রেখে দিয়ে গেছে বামেরা। এখন বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে! কারণ, বিজেপির হাত ধরে হিন্দু বিপ্লবে যদি বাম শব্দটাই গালাগালের প্রতিশব্দ হয়।আর তৃণমূল সরকার রাজ্যের হিন্দুদের রাগাতে সঠিক অনুঘটকের কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য তৃণমূল সরকারের সমালোচনা না করে বরং উতসাহ দেওয়া উচিত। তবে ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্তের মত বাংলায় হিন্দুর ভাত ঘুম শেষ। হিন্দু সংহতির শক্তি বৃদ্ধি এবং সভাপতির পদে তারুন্যকে জায়গা করে দিতে তপন ঘোষের সরে যাওয়া এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।










তপন ঘোষের এই সরে যাওয়া নিয়ে রাজনীতির হিন্দু মুসলিম মনে নানা রকমের বোকা বোকা অংক ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও তপন ঘোষ ঘনিষ্ঠদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে হিন্দু সংহতি নতুন উদ্যমে শক্তি বৃদ্ধি করছে। যা আগামী দিনে এই দুই রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূলের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আর সিপিএম সহ বামেদের অস্তিত্ব কবরের মাটিতে মিশিয়ে দেবে।



চৌত্রিশ বছরে বামেরা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করলেও রাজ্যের হিন্দুদের মন থেকে হিন্দুত্বকে মুছে দিতে পারেনি। তেমনি ভাবে মুসলিম বাম নেতাদের বাঙালী পোশাকের আবেগ দেখিয়ে ধুতি পরিয়ে ইসলামপ্রীতিও মুছতে পারেনি। রেজ্জাক মোল্লার হজ ও তৃণমূলে যোগ বামেদের ইসলাম ভাবাবেগ মোছার ব্যার্থ প্রমাণ। তেমনি, বাংলার গ্রামে গ্রামে কীর্তন , পুজোর প্রতি আকষর্ণ বৃদ্ধি হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে বার্তা হল, ওহে বাম তোমরা রাশিয়া ভুলে গেছো।দীর্ঘ বাম শাসনের রাশিয়ানরা হৃদয়ে ধর্মকে রেখে দিয়েছিলেন যত্ন করে তাই সোভিয়েত রাশিয়া ভাঙতেই খ্রিষ্টান ও মুসলিম ধর্মের ভিত্তিতেই ভাগ হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গেও মানুষের ধর্মীয় মনের ক্ষেত্রে সোভিয়েত রূপ দেখা গেছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই সবার আগে নজর দিয়েছিলেন মুসলমান সমাজের দিকে। সাচার কমিটির রিপোর্টকে হাতিয়ার করে ইমাম ভাতা সহ মুসলিম সমাজের মানের উন্নয়ন করতে ঢালাও অর্থ বরাদ্দ করেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার মৃত মুসলিমদের জন্যও ভেবেছিলেন।কবরস্হান সংস্কারের জন্যও টাকা ব্যয় করেন তিনি।






 এই বরাদ্দে আঁতেল গোঁয়ার হিন্দুরা সমালোচনা করলেও সরকারের কাছে পাল্টা দাবি রাখতে ব্যর্থ হয়। বামেরা চৌত্রিশ বছরে হিন্দুদের শেষ মনোবলটুকুও ধ্বংস করে দিয়েছিল। অথচ, জ্যোতি বসু সরকারের বেশিরভাগ দাপুটে নেতারা বাংলাদেশ থেকে মুসলিমদের তাড়া খেয়ে এদেশে চোরের মত চলে এসেছিলেন। তারা ভালো করেই জানতেন বাংলা ভাষার জন্য বায়ান্ন হলেও মুসলিম সমাজের বিরাট অংশ আজও ভাবেন, বাংলা ভাষা হিন্দুদের ভাষা। বামেদের এই হিন্দু সাহস ধ্বংসের ফলে মমতা সরকারের কাছে কেউ সাহস করে বলে উঠতে পারেননি আমাদেরও পুরোহিত ভাতা চাই। শ্মশান সংস্কার ও মন্দির সংস্কার করে দিতে হবে।বামেরা হিন্দু নেতাদের ভুলিয়ে দিয়েছিলেন, হিন্দু ধর্ম নয় সভ্যতা। ধর্মের নাম সনাতন।এই দুটো লাইন বলা হিন্দুরা নাকি আরএসএস ও বিজেপি। বামেদের কাছে প্রশ্ন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুসলমানরা কি তাহলে আরএসএস ও বিজেপি? কারণ, এই দুই দেশে আজও বলা হয় সনাতন ধর্মালম্বী হিন্দু। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সিন্ধু তথা হিন্দু সভ্যতাকে স্বীকৃতি দিলেও এদেশের বাম কংগ্রেস তা মানতে নারাজ। ফলস্বরূপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর খেপে লাল হয়ে হিন্দুরা চায়ে পে তর্কবিদ হয়ে উঠলেন। ভয়ে স্ত্রীর আঁচল থেকে বের হতে পারলেন না । পাছে আরএসএস বিজেপি তকমা লাগে। এভাবেই স্বাধীনতার পর থেকেই এই রাজ্যে বাঙালী হিন্দু মুখ তৈরি হয়নি। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাঙলার কোন্দলবাজ, স্বাভাবিক লৌকিকতা ও রাজনৈতিক নিরক্ষর বিজেপি নেতারা চেয়ার আগলে বসে থাকলেন।দিল্লির নেতাদের ভূল বুঝিয়ে বাম তৃণমূলের থেকে নানান সুবিধা ভোগ করে বিজেপিকে মোবাইল শক্তি দেখিয়ে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে পগার পারের রাজনীতি শুরু করলেন। এত না তৈরি হয়েছে হিন্দু মুখ না মজবুত হয়েছে সংগঠন। ভারতে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের মত লড়াকু নেতৃত্বের বিজেপি নজিরবিহীন হলেও বাঙলার গোষ্টিবাজ বিজেপির কারণেই বাংলার রাজনীতি, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বিজেপি নিজেদের অক্ষমতার এই দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে থাকেন দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বকে দেখানোর জন্য। এখানে মন্দের ভালো বামেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে দোষ না দিয়ে বরং বিজেপিকে দোষ দেয় সাম্প্রতিককালের সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্য।এতে বামেরা অন্ধকারের রাজনীতি করলেও বিজেপির মত প্রকাশ্য প্রতারণা করছেনা।



বিজেপির প্রকাশ্য প্রতারণা আর বামেদের অন্ধকারের রাজনীতির সঙ্গে তৃণমূল সরকারের তোষণ রাজনীতির পরিস্হিতিতে প্রবীণ তপন ঘোষের নেতৃত্বে হিন্দু সংহতি এগোচ্ছে সব থেকে দ্রুতগতিতে। দ্রুতগতির এই উত্থান বর্তমান বাংলায় হিন্দু সংহতির ধারেকাছে কেউ নেই। কারণ, হিন্দু সংহতির হিন্দু রক্ষার পতাকা তলে দাশ ক্যাপিটাল নয় ঈশ্বর বিশ্বাসী বাম, তোষণ বিরোধী তৃণমূল আর কোন্দলবাজ রাজনৈতিক ও সাংগাঠনিক নিরক্ষর বিজেপি বিরোধীরা হাতে হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে গেছে। বাদুড়িয়া ও বসিরহাট তা প্রমাণ করে দিয়েছে। সুচুতুর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হিন্দু সংহতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তপন ঘোষ স্পষ্টই বুঝতে পেরেছিলেন রাজ্যে অভাব শক্তিশালী হিন্দু সংগঠন এবং হিন্দু মুখ। বসিরহাট কান্ডের পর চিন্তাভাবনা শুরু করেন তিনি। হিন্দু সংহতির তরফে প্রথম দাবি উঠেছিল বির্তকিত ওই ফেসবুক পোষ্ট অভিযুক্ত নাবালক করেনি, যা পরে পুলিশী তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়। হিন্দু সংহতির এই সাফল্য তপন ঘোষকে এতটাই অনুপ্রাণিত করে যে তিনি স্হির করেন এবং তলে তলে নিজেকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে নিতে প্রস্তুত করেন। তপন ঘোষকে বংলার আপামর সাধারণ মানুষ না চিনলেও তিনি হিন্দুত্বের মুখ হয়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছিলেন সংগঠন বৃদ্ধির সাথে সাথে। এই মুহূর্তে বাংলার প্রতিটি পঞ্চায়েতে হিন্দু সংহতির সংগঠন এতটাই মজবুত যে সংবাদ মাধ্যমের আগেই যে কোনও ঘটনার ভিডিও এবং স্টিল ছবি তারা পেয়ে যায়। রাজ্যে তৃণমূলের পরে শক্তিশালী সংগঠন হিসাবে দাবি রাখে অরাজনৈতিক হিন্দু সংহতি। সেখানে বিজেপির প্রতিটি মন্ডলে পড়তে পড়তে কোন্দল এতটাই যে ঐক্যের অভাবে কোনও কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন জেতার ক্ষমতা নেই। পাশাপাশি এটাও সত্যি যে বাংলার জনগন বিজেপিকে ভোট দিতে তৈরি সেই বার্তা দিতেই বিজেপি ভোট পাচ্ছে এবং জিতছে। তপন ঘোষ বাংলার এই ভবিষ্যত ভয়াবহতা যে একা বুঝতে পারছেন তা নয়। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বুঝতে পেরেছেন বাংলার করুণ ভবিষ্যত। মুসলিম তোষণের জন্য তৃণমূল সুপ্রিমোর অতি ঘনিষ্ট নেতারাও অখুশি। তবে তাতেও বাঙালির জাগরণ হচ্ছে না। হিন্দু সমাজ থেকে কোনও দাবি তৃণমূল সরকারের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। হিন্দু সংহতি যদি হিন্দু অস্তিত্ব রক্ষা কবচ সংগঠন হিসাবে উঠে আসে তাতে আগামী দিনে রাজ্যের যে কোনও সরকারের কাছে হিন্দু একটা আতঙ্ক হিসাবে কাজ করবে যেমনটা ত্রিশ শতাংশ ভোট সংখ্যার মুসলিমদের জন্য সরকার ভাবে।

তপন ঘোষ সরে যাওয়ার পর বামপন্হীদের আনন্দের ভাবনা হল হিন্দু সংহতি যদি তৃণমূলকে সর্মথন করে তাহলে লাভবান হবে তারা। বিজেপির সংগঠনে ধাক্কা খাবে। ফিরবে বামেরা। বামেদের এই বোকা ভাবনা সাফ করে দেবে হিন্দুদের ঘৃনার জোয়ার। হিন্দু সংগঠিত হলেই জেগে ওঠা মানুষের মধ্যে থেকেই বিজেপির কোন্দলবাজদের সরিয়ে রাশ হাতের মুঠোয় তুলে নেবে একদল শিক্ষিত সচেতন সাংগঠনিক বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ।দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব তা ইতিমধ্যেই আঁচ করতে পেরেছেন। তাই বাংলা নিয়ে তাদের ভাবনা হল আপাতত দিল্লি টু কলকাতা আয়ারাম গয়ারাম।  

এই পরিস্থিতিতে  তৃণমূলের জনসমর্থন বিজেপির পক্ষে আনা কঠিন।  আর সেই জনসমর্থনের জোয়ারের মানুষ ঝুঁকছেন হিন্দু সংহতির দিকে।   যা দেখে কংগ্রেস, বাম ও বিজেপির সচেতন এবং যুব সমাজ হিন্দু সংহতিকে ফেসবুকের মত ওপেন প্লাটফর্মে প্রকাশ্য সমর্থন করছেন।   বুদ্ধিমতী মুখ্যমন্ত্রী তাই হিন্দু সংহতি নিয়ে সবার আগে ভেবেছিলেন এবং এখনও ভাবছেন ।   হিন্দু সংহতি আগামী লোকসভা নির্বাচনে হিন্দু ভোট ব্যাংকের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে কি ফ্যাক্টর হতে চলেছে ?    কারণ হিন্দু সংহতির সভাপতি তরুন প্রজন্মের হিন্দু নেতা দেবতনু  ভট্টাচার্য  এই যাত্রার  অশ্বমেধ ঘোড়ার সওয়ারী,  আর পোড় খাওয়া দক্ষ সংগঠক  তপন ঘোষ হলেন যজ্ঞের পুরোহিত। 




https://amisatyajit.blogspot.in/2017/09/hindu-samhati-west-bengal.html?m=0

No comments