Header Ads

অষ্টাদশ শতকে বর্গীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি সরপী গ্রামের রায়চৌধুরী জমিদার বংশের মা দুর্গা





অষ্টাদশ শতকের বর্গীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি  সরপী গ্রামের রায়চৌধুরী জমিদার বংশের  মা দুর্গা।প্রায় চারশো বছরের পুরনো রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপূজো এমনই ইতিহাস বহন করে আসছে।সেই সময় বর্ধমানের বাঙালিরাও বর্গী লুন্ঠনের শিকার হয়।সেই সময় বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর- ফরিদপুর ব্লকের সরপী, কেন্দুয়া, চাপবাঁন্দি,ঝাঁঝরা,বাঁশগোঁড়া,হেতেডোবা,ইছাপুর মৌজা নিয়ে শেড়গড় পরগনা নামে একটি অঞ্চল ছিল।এই শেড়গড় পরগনার জমিদার ছিলেন অর্জুন রায়চৌধরী।তিনি মা সিংহ বাহিনী দুর্গার আরাধনা করতেন।কথিত আছে সেই সময় বর্গীরা শেড়গড় পরগনার জমিদার বাড়িতে লুটপাট করেতে এসেছিল। বর্গীরা গ্রামে ঢুকতে গেলে গ্রামে ঢোকার মুখে রাস্তায় বর্গীদের সিংহ বাহিনী মা দুর্গা বাঁধা দেন।বাঁধা পেয়ে বর্গীরা মা দুর্গাকে চিনতে না পেরে তরবারি দিয়ে মা দুর্গার ডান হাত কেটে দেয়।মা দুর্গা তখন রণমূর্তী ধারণ করে বর্গীদের চিরতরে দৃষ্টিহীন করে দেন।গ্রামবাসীরা তখন বর্গীদের ভয়ানক আর্তনাদ শুনতে পেয়ে দৌড়ে এসে দেখে বর্গীর দল অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।তাঁদের পাশে সিংহবাহিনী মা দুর্গার ডান হাতটি কাটা পড়ে আছে।পরে বর্গীদের জ্ঞান ফিরতে তাদের কাছ থেকে জমিদার ও গ্রামবাসীরা পুররো ঘটনাটি জানতে পারে।এই রোমাঞ্চকর ঘটনার কথা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।বর্গীরাও আসল  ঘটনা জানতে পেরে আর কখনও এই অঞ্চলে  বর্গীদের আক্রমণ হয়নি।জমিদার অর্জুন রায়চৌধুরীর বংশের ১১ তম পুরুষ অরুন
রায়চৌধুরী ও ধর্মদাস
রায়চৌধুরী বলেন,গ্রামে এখন ৮ টি দুর্গাপুজো হয়। তার মধ্যে রায়চৌধুরী জমিদার বাড়িতে একটি মাত্র দুর্গাপূজো হত। তখন সিংহবাহিনী মা  দুর্গার পাথরের মূর্তি পূজিত হত।হঠাৎই একদিন বর্গীরা জমিদার বাড়িতে আক্রমন করার চেষ্টা করে।মা দুর্গা বর্গীদের বাঁধা দিলে বর্গীরা  মায়ের ডান হাত কেটে দেয়।তারপর থেকে  সিংহবাহিনী মা দুর্গার কাটা হাতে শাঁখা পলা পরিয়ে মায়ের মূর্তির সামনে রেখে পুজো করা হয়।কেবল মাত্র মহানবমীর দিন এই মূর্তির পুজো করা হয়।অন্য আরেকটি মন্দিরে মা দুর্গার পুজোর নিয়ম অনুসারে চারদিনই পুজো করা হয়।এই চারদিনই ঘরের গৃহলক্ষীকে দুর্গামন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।এই দুটি দুর্গা পূজোকে ১৬ আনা ধরে জমিদার ১০ আনা ও ৬ আনা ভাগে তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর পাঁচ ছেলে ও দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর তিন ছেলের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন।দুটি পুজো মন্ডপেই দুটি করে কাঁড়া বলি ও সঙ্গে কয়েকশো পাঠা বলি হত।বছর দশেক আগে কাঁড়া বলি প্রথা উঠে যায়।এখন পাঁঠাবলি হয়।আগে মহা নবমীর দিন কাঙালি ভোজন হত।সেখানে খাবারের তালিকায় থাকতো লুচি,আখের গুড়,কচুর তরকারি।এখন সেসব বন্ধ হয়ে গেছে।বর্তমানে নবমী এবং রামনবমী এই দুইদিন পুজো করা হয়।দুটি মন্দিরেই সব নিয়ম মেনে নিষ্ঠাভরে সিংহবাহিনী মা দুর্গার নিত্য পূজো করা হয়।

No comments