Header Ads

রোহিঙ্গাদের দূর্দশার পিছনে রয়েছে সন্ত্রাসীদের অপকর্ম


রোহিঙ্গাদের দূর্দশার পিছনে রয়েছে সন্ত্রাসীদের অপকর্ম








বাংলাদেশে চিটাগাং হিলট্যাক্স এবং প্রাচীন বার্মার মধ্যবর্তী অঞ্চলটি আরাকান রাজ্য হিসাবে পরিচিত ছিল।এখানকার একটি অঞ্চলে রাখাইন প্রদেশ। অধিবাসীরা বৌদ্ধ। ১৭৮৫ সালে বার্মার কনবাঙ রাজবংশ এটি দখল করে। এরপর বার্মার মূল জনগোষ্ঠীর ওপর রাখাইনরা অত্যাচার শুরু করে। সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া, মহিলাদের ধর্ষণ,ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটতেই থাকে।
বার্মিজ ঐতিহাসিকদের বিবরণ থেকে জানা যায়, বাঙালী মসলমানরা যারা নিজেদের রোহিঙ্গা বলে পরিচয় দেয় তারাও বার্মাদের সহযোগী ভূমিকা পালন করে ঘরবাড়ি জবর দখল, মহিলাদের ধর্ষণ, এবং জবরদস্তি মূলক ভাবে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হয়। ফলে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইন প্রদেশের জনবিন্যাসের পরিবর্তন সূচিত করে। এর মধ্যে ১৮২৪ - ২৬ সালে শুরু হয় অ্যাংলো বার্মিজ যুদ্ধ। যার পরিনতিতে ব্রিটিশ সমস্ত আরাকান রাজ্য দখল করে নেয়। তখনই আরাকানে বাঙালী মুসলিমরা অনুপ্রবেশ করে। ব্রিটিশরাও আরাকানে নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে বাঙালী বসতি তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছিল। আরও পরে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আরাকানকে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অর্ন্তভূক্ত করলে বাঙালী যাতায়াত অবাধ হয়। তখনই আরাকানের জনসংখ্যার কুড়ি শতাংশ বাঙালী মুসলিম হয়ে দাঁড়ায়।
চট্টগ্রাম থেকে বাঙালী মুসলমানদের অপ্রতিরোধ্য অনুপ্রবেশ আরাকানের জন বিন্যাসে যে অস্থিরতা তৈরি করে তা থেকেই শুরু হয় সংঘাত। বাংলাদেশ জন্মের পরও অনুপ্রবেশ অব্যাহত ছিল বলে দাবি করে মায়ানমার।ভূমিপুত্র বৌদ্ধ ধর্মী এলাকা রাখাইন এবং মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার জেমস এশটার এবং টিন টিন যিনি স্বাধীন ব্রক্ষ দেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কে নিয়ে একটা কমিশন গঠন করে দিয়েছিলেন। কমিশন আরাকান এবং বাংলার সীমান্ত সিল করে দেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু তা কাগজ পত্রে সীমাবদ্ধ থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ এই বিধিনিষেধ তুলে নেয়। এবং জাপানিদের হাতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তুলে দেয়। রোহিঙ্গারা এই সুযোগে রাখাইনদের ওপর আক্রমণ জোরদার করে। ব্রিটিশদের রোহিঙ্গা প্রীতির প্রতিবাদে রাখাইনরা ফের জাপানিদের সমর্থক হয়ে পড়ে। শুরু হয় আরেক রক্তাক্ত অধ্যায়।১৯৪২ সালে রোহিঙ্গারা উত্তর আরাকানে কুড়ি হাজার রাখাইনকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের নায়ক আরটান পরবর্তীকালে পাকিস্তান ও আমেরিকায় নির্বাসিত জীবন যাপন করে।জাপানি সৈন্যবাহিনী বার্মার কিছু অংশ দখল করে নেওয়ার পর বাইশ হাজার রোহিঙ্গা বাংলায় আশ্রয় নেয়। ব্রিটিশ সরকার আবার "ভলেনটিয়ার্স ফোর্স" নামে সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের জাপানিদের মোকাবিলায় নিয়োজিত করে। সেই অস্ত্র আবার রাখাইনদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। রাখাইনদের হত্যা, প্যাগোডা ধ্বংস, নারীদের অত্যাচার সহ ব্যপক ধর্মান্তরণ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে ব্রক্ষদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তখন রোহিঙ্গারা ব্রক্ষদেশের নাগরিক হতে অস্বীকৃতি জানায়। এবং পাকিস্তানের জনক মুহম্মদ আলি জিন্নার সাথে দেখা করে আরাকানকে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জানায়। কিন্তু বুদ্ধিমান জিন্নাহ ব্রক্ষদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে অস্বীকার করেন। এই প্রক্ষাপটেই ১৯৪৮ সালে "মুজাহিদ পার্টি"গঠন করে। তাদের লক্ষ্য ছিল উত্তর আরাকানে একটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী আন্দোলন চলে রাখাইনদের বিরুদ্ধে। প্রাণহানির সঙ্গে ধ্বংস হয়েছে অনেক বৌদ্ধ মন্দির এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন কতৃক এক সামরিক অভ্যুত্থানে ব্রক্ষদেশের ক্ষমতা দখলের পর অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এবং রোহিঙ্গাদের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপে রাশ টানা হয়। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে সামরিক জুন্টার অত্যাচারে গৃহচ্যুত ৭৫ ০০০০ বাঙালী মুসলিম শরনার্থী ব্রক্ষদেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরও অনুপ্রবেশ চলছে বলে মায়ানমারের দাবি।

মায়ানমারের সক্রিয় ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠী "আরাকান রোহিঙ্গা সেলভেশন আর্মি" মায়ানমারকে ইসলামী রাষ্ট্র তৈরি করতে মালয়েশিয়া পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য পেয়ে থাকে। মালয়শিয়া ও পাকিস্তানে চলে অস্ত্র প্রশিক্ষণ। আলকায়দাও সাহায্য দিয়ে আসছে।গত মে মাসে সেলভেশন আর্মি বেশকিছু থানা ও টহলদার সেনা বাহিনীর ওপর আক্রমণ করে। তারপরেই মায়ানমার সেনা রোহিঙ্গাদের ওপর অপারেশন শুরু করে। রোহিঙ্গা হানা চিরতরে নির্মূল করতে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে সেনা। ফলে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। এটাই বাস্তব সত্য। নইলে এত মানুষ গৃহত্যাগী হতে পারেনা। বাংলাদেশ মানবিক কারনে শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু ব্যাপক আর্ন্তজাতিক সাহায্য না পেলে তা সামাল দেওয়া কঠিন।
রোহিঙ্গাদের স্বাধীন ইসলামীক রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বব্যাপ্ত ইসলামী জঙ্গিবাদ প্রসারে সৌদি আরবের অগ্রণী ভূমিকা সর্বজন বিদিত। কাশ্মীর থেকে মায়ানমার এক সুত্রে ধরা পড়েছে। প্রতিবেশী মালয়েশিয়া একদিন বৌদ্ধ এবং হিন্দু প্রধান রাষ্ট্র ছিল। শুধুমাত্র ধর্মান্তকরণের মাধ্যমে এখন ইসলামী রাষ্ট্র। দূর্বল রাষ্ট্র মায়ানমার  থেকে আরাকান ছিনিয়ে নেওয়া তাই খুব একটা কঠিন নয়। বৃহত শক্তির ভারত কাশ্মীর নিয়ে সাত দশক ধরে ভূগছে। এই বাস্তব উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মায়ানমারে গিয়ে জানিয়েছেন, মায়ানমারের অখন্ড অখন্ডতা রক্ষায় ভারত পাশে থাকবে। এতে কেউ কেউ হয়ত দুক্ষ পাবেন, কিন্তু বাস্তব বড়ই নিষ্ঠুর।
ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সব পরাশক্তি এখন এক কাতারে। আমেরিকা থেকে রাশিয়া সকলেই এক এই ইস্যুতে।যারা ব্রক্ষদেশের উৎখাত উদ্বাস্তুদের জন্য রাস্তায় নেমেছেন, মিটিং মিছিল করছেন ৭১ সালে তাদের ভূমিকা কি ছিল তা বিশ্ববাসী ভোলেনি। বাংলাদেশের কমবেশি এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ত্রিশ লক্ষ খুন আর পাঁচ লক্ষ মহিলা ধর্ষিত হন। এ নিয়ে কোনও প্রতিবাদ হয়নি সেক্যুলার ভারতের মাটিতে।সভা মিছিল করেননি আজকের এপিডিআর, মানবতাবাদী, কংগ্রেস , পামপন্হীরা। কাশ্মীরে  ইসলামী জেহাদীদের উৎখাতে লক্ষ লক্ষ পন্ডিত আজও দিল্লির রাজপথে প্রভূহীনের মত বেঁচে আছেন। এদের জন্য কারও হৃদয় কাঁদে না। সৌদিআরবের বোমা বর্ষণে লক্ষ লক্ষ মুসলমান গৃহহীন। মুত্যু মুখে হাজার হাজার শিশু নারী বৃদ্ধ। গত কয়েক মাসে পঞ্চাশ হাজারের বেশি মসজিদ গুড়িয়ে দিয়েছে চিন।অত্যাচার করছে সেখানকার মুসলিমদের ওপর। কেউ তো উচ্চ বাচ্য করছেনা। মানবতাবাদীরা শব্দ হীন। প্রতিবাদহীন। এই দ্বিচারীতা থেকেই সহজেই ধরা পড়ে ধান্দাবাজী মুখের মুখোশ। মায়ানমারের যে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে তার পিছনের রাজনীতির কুৎসিত খেলা রয়েছে তা ভূলে গেলে চলবে না। সন্ত্রাসীদের অপকর্মের ফল ভোগ করছেন শান্তিপ্রিয় রোহিঙ্গারা।
সংগৃহীত : দৈনিক যুগশঙ্খ।লেখক : অতীন দাশ।7896842456
৯/৯/১৭


No comments